শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

শালিক ও দোয়েলের বন্ধুত্ব

রেজাউল রেজওয়ান

ক’দিন ধরেই মেঘ আর রোদের লুকোচুরি খেলা চলছে। এই বৃষ্টি এই রোদ। প্রকৃতির কী লীলাখেলা । বিশালাকার একটা পুরনো কড়ই গাছের কোটরে শালিক পাখিদের বাসা । মা শালিক, বাবা শালিক আর তাদের দু’ছেলে-মেয়ে। সুখের সংসারই বলা যায়। সারাদিন অনেক খাটাখাটুনি করে মা শালিক আর বাবা শালিক তাদের সন্তানদের জন্য খাবার জোগাড় করে। ছোট বাচ্চাদুটোকে তারা বিভিন্ন পশু-পাখির আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য সর্বদা তৎপর থাকে। তাদের নাওয়া-খাওয়া ভুলে বাচ্চাদের ভালো রাখার জন্য সর্বদাই অস্থির থাকে। একবারতো একটা বড়ো আকৃতির সাপ তাদের বাসার ভেতরে ঢুকেই গিয়েছিল। যদি না দোয়েল বন্ধু সময়মতো তৎপর হতো, তবেতো তাদের বাচ্চাদের বাঁচানোই যেত না। হায়! হায়! সে কথা মনে হলে মা শালিকের মনটা কেমন জানি করে ওঠে। সেদিন ভরদুপুরে তার বাচ্চারা বাসায় ঘুমিয়ে ছিল। মা-পাখিটা বাচ্চাদের জন্য খাবার আনতে গিয়েছিল। 

 à¦®à¦¾ শালিকটা বাচ্চাদের একা রেখে সহসা দূরে কোথাও যায় না। সর্বদা বাচ্চাদের আগলে রাখে। মা-তো, তাই বাচ্চাদের জন্য তার মায়া একটু বেশিই বলা যায়। অথচ বাবা শালিকটা সেই কোথায়-কোথায় চলে যায়। সকালে যায়, সন্ধ্যার সময় আসে।

সেদিন ভরদুপুরে ভালো আবহাওয়া, ঝলমলে রোদদুর। মা-শালিকটা ছোট্ট বাচ্চাদের নরম খাবারের খোঁজে একটু দূরে চোখের আড়ালে গিয়েছিল। খাবারও যোগাড় হয়ে গিয়েছিল, মুখে করে নিয়ে আসছিল। মাঝপথে ওঠে প্রবল দমকা হাওয়া, সঙ্গে কিছুটা বৃষ্টিও। বাতাসের দমকা হাওয়ায় মা শালিকের মুখের খাবার পড়ে যাবার উপক্রম হলো। খাবারগুলো রক্ষা করার জন্য শালিকটা মাঝপথে বটগাছের একটা শাখার আড়ালে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করছিল। আর তখনি সেই ভয়াবহ ঘটনাটা ঘটে। পাশের নারিকেল গাছটার কোটরেই দোয়েল পাখিদের বাস। তার সাথে শালিক পাখিদের খুব ভাব ছিল। দোয়েল পাখিদের বাসা থেকে শালিক পাখিদের বাসা খুব কাছাকাছি হওয়ায় সবসময়ই শালিক পাখিটির বাসা তাদের চোখের নাগালেই থাকতো। তাছাড়া শালিক পাখিদের বাচ্চা হওয়ার পর তারা দোয়েল পাখিদের দাওয়াতও দিয়েছিল। ঘটা করে উৎসব না করলেও মোটামুটি ভালোই আয়োজন করেছিল শালিক পাখিরা। নতুন বাচ্চা হয়েছে খালি হাতে তো আর যাওয়া যায় না। নরম কয়েকটা পোকা নিয়ে দোয়েল পাখি সেদিন সেই দাওয়াতে অংশগ্রহণও করেছিল। সেই থেকে তাদের বন্ধুত্বের বন্ধন আরো সুদৃঢ় হয়। বিপদের সেই দিন দুপুরবেলা কড়ই গাছ বেয়ে শালিক পাখিদের বাসার দিকে এক মস্ত বড়ো সাপ উঠতে ছিল । মা শালিকতো সেদিন বাসায় ছিল না। সেতো তার বাচ্চাদের জন্য খাবার আনতে গিয়েছিল। আর ঝড়ের কবলে পড়ে দেরি হতে লাগলো। বাসার ভিতরে ছোট বাচ্চারা তখন ঘুমিয়েই ছিল। তারাতো খুব ছোট্ট, তখনো উড়তে শিখে নি। বিপদ এলে যে উড়ে দৌড়ে পালাবে সেটাওতো সম্ভব ছিল না। কী আর করা, তারা গাছের কোটরের সেই ছোট্ট বাসার ভিতরে ঘুমিয়েই ছিল। আর ওদিকে সাপটি তাদের বাসার ভিতরে ঢুকেই গিয়েছিল। কী ভয়াবহ বিপদ! বাসায় ঢুকে পড়লে শালিক পাখির বাচ্চা দু’টুকেতো আস্ত গিলে ফেলতো। পাশের বাসার দোয়েল বন্ধু বিষয়টি শুরু থেকেই দেখছিল। 

সে কালবিলম্ব না করে নিকটেই তার আরো কয়েকজন দোয়েল ও কাক বন্ধুদের ডেকে আনলো। সবাই যে যার মতো করে সর্বস্ব শক্তিতে চিৎকার, চেঁচামেচি, হইহুল্লোড় ডানা ঝাপটাঝাপটি করতে লাগলো। তাদের দল ক্রমশ আরো বড়ো হলো। অবস্থা বেগতিক দেখে সাপটি ধীরে ধীরে গাছের নিচে নেমে ঐ স্থান দ্রুত ত্যাগ করলো । ইতিমধ্যে মা শালিকটিও বাসায় পৌঁছে গেল। সব দেখে শুনে শালিক পাখিটি দোয়েল পাখিটিকে আবেগে আপ্লুত হয়ে জড়িয়ে ধরলো। 

কতক্ষণ জড়িয়ে ছিল আর কী বলেছিল তা দোয়েল পাখিটির ঠিক মনে নেই । 

তবে শালিক পাখিটির চোখ থেকে গড়িয়ে পরা কৃতজ্ঞতার অশ্রু দোয়েল পাখিটির বুকে বেশ কয়েক ফোঁটা যে গড়িয়ে পরেছিল তা স্পষ্ট à¦®à¦¨à§‡ আছে। 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ